নিজস্ব প্রতিবেদক:যশোর শহরের ঘোপ এলাকার সরু গলির ভেতরে জীর্ণ একটি ঘরে থাকেন সোখিনা খাতুন ৬৫। চারদিকে যখন ঈদের কেনাকাটার ধুম সোখিনা খাতুন মনে তখন কেবলই দুশ্চিন্তার মেঘ—কীভাবে জুটবে দুই বেলা খাবার? তবে আজ তার মুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। শুধু সোখিনা খাতুন নন, তার মতো শওকত হোসেন, তাহেরের পরিবারেও আজ আনন্দ পৌঁছে গেছে। একদল স্বপ্নবাজ তরুণের হাত ধরে তাদের হাতে পৌঁছেছে ঈদের উপহার।
আজ রোববার জোহরবাদ যশোরের ঘোপ এন এম খান প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এক মানবিক মেলবন্ধন দেখা যায়। ভরসার হাত, সুরক্ষিত ভবিষ্যৎ এ শ্লোগানকে সামনে রেখে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আল মামুন ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে এলাকার ৫১টি অসচ্ছল পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঈদের আনন্দ যেন কেবল সামর্থ্যবানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সেই লক্ষ্যেই তারা এই ক্ষুদ্র প্রয়াস চালিয়েছেন। সুশৃঙ্খল পরিবেশে একে একে পরিবারের সদস্যরা যখন উপহারের ব্যাগগুলো হাতে নিচ্ছিলেন, তখন অনেকের চোখেই ছিল কৃতজ্ঞতার জল।
উপহার পেয়ে সোখিনা খাতুন আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, সবাই যখন আনন্দ করে, আমাদের মতো গরিবের তখন কান্না ছাড়া কিছু থাকে না। আজ এই উপহার পেয়ে মনে হচ্ছে আমাদেরও ঈদ হবে। আল্লাহ ওদের মঙ্গল করুক।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব সরফুদৌলা ছটলু। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা বিএনপি নেতা মাসুদুল হক, নগর বিএনপির মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ারা পারভীন আনু, জেলা মহিলা দলের যুগ্ম সম্পাদক রাফাত আরা ডলি ও সুফিয়া বেগম, ৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মারুফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বির মালিক।
পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সদস্য সচিব শাকির আহমেদ শুভ্র। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক তানভীর হায়দার তমাল। এই মানবিক উদ্যোগে ছায়ার মতো পাশে ছিলেন উপদেষ্টা আল মামুন শাওন, যুগ্ম আহ্বায়ক পাপ্পু জামান, সদস্য রুবেল তরফদার ও এমদাদ শাওনসহ একঝাঁক প্রাণোচ্ছল স্বেচ্ছাসেবী। সংগঠনের নেতারা জানান, আর্তমানবতার সেবায় ‘আল মামুন ফাউন্ডেশন’ সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চায়। সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে এলে আগামীতে আরও বড় পরিসরে এই সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।
বিকেলের রোদে যখন এন এম খান স্কুল মাঠ খালি হচ্ছিল, তখন উপহারের ব্যাগ কাঁধে নিয়ে বাড়ি ফেরা মানুষগুলোর হাসিতে লেগে ছিল তৃপ্তির আভা। যে হাসিতে মিশে ছিল মানবিকতার এক পরম নির্ভরতা।