মোঃ হামিদুজ্জামান জলিল স্টাফ রিপোর্টার:ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ১৭ নং নলডাঙ্গা ইউনিয়নের নলডাঙ্গা ভূমি অফিসকে ঘিরে উঠেছে অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই অফিসে সেবা নিতে গেলে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। বিশেষ করে অফিসের পিয়ন পদে কর্মরত তরিকুলের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে নির্ধারিত সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত টাকা ছাড়া কোনো কাজ এগোয় না। আর এই অনিয়মের মূল কেন্দ্রে রয়েছেন পিয়ন তরিকুল। যদিও তিনি একজন নিম্নপদস্থ কর্মচারী, তবে তার আচরণ ও কার্যকলাপ দেখে মনে হয় যেন তিনি অফিসের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি। অফিসে আসা সাধারণ মানুষকে তিনি তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন, খারাপ ভাষায় কথা বলেন এবং টাকা ছাড়া ফাইল নড়াচড়া করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি টাকা লেনদেনের সময় এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করলে তরিকুলের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও গালাগালির অভিযোগ ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সাংবাদিকের সঙ্গে তিনি অশালীন ভাষায় কথা বলেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে তোলেন। ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অফিসে এ ধরনের অবৈধ টাকা লেনদেন সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে নাকি এটি একপ্রকার ‘খোলা গোপন’ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেন, তরিকুলের কাছে টাকা না দিলে নামজারি, খাজনা সংক্রান্ত কাজ বা অন্যান্য ভূমি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি করা হয়।
স্থানীয়রা আরও বলেন, একজন পিয়নের দায়িত্ব সীমিত হলেও তরিকুল নিজেকে নায়েবের ঊর্ধ্বতন কোনো কর্মকর্তার মতো আচরণ করেন। কারও সঙ্গে ভদ্র ব্যবহার না করা, অনৈতিক প্রভাব খাটানো এবং সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো—এসব অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এমন পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, নলডাঙ্গা ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষ ন্যায়সঙ্গত সেবা থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত তরিকুলের বক্তব্য জানা যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্যও এখনো পাওয়া যায়নি।