স্টাফ রিপোর্টার : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর-৩ সদর আসনে ধানের শীষ প্রতিকের প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পক্ষে এক নির্বাচনী প্রচার সভা গতকাল বিকেলে লেবুতলা ইউনিয়নের কোদালিয়া সরকারী প্রাইমারি স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। আটরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিল কর্মী গ্রুপের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনী প্রচার সভায় সভাপতিত্ব করেন লেবুতলা ইউপি কর্মী গ্রুপ প্রধান গোলাম রব্বানী। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা কর্মী গ্রুপের প্রধান ও প্রেস ক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইসমাইল হোসেন ও লেবুতলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম হ্যাপী। অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন দেলু, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি নূর ইসলাম, যশোর ইন্সটিটিউট নাট্যকলা সংসদের সম্পাদক বিশিষ্ঠ নাট্য ব্যক্তিত্ব আব্দুর রহমান কিনা, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সাত্তার,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী মুরাদ হোসেন প্রমুখ। এছাড়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক চুন্নু, ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রবিউল ইসলাম,বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী রাকিব উদ দৌল্লাহ শুভ্র, জেলা যুব অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মিলন শেখ আপন, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব শেখ শাহ রিয়াজ হোসেন সোহাগ, সাইফুল ইসলাম, সুখেন্দ্র নাথ পোদ্দার, জাকের মঞ্জিলের কর্মী গ্রুপের নেতা আসাদুজ্জামান আসাদ,আব্দুল মান্নান, ছানোয়ার হোসেন বকুল, সাহেব আলী প্রমুখ নেতৃবৃন্দসহ স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কয়েকশ’ নেতাকর্মী-সমর্থক ও ভোটারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, আমরা সকলেই মরহুম তরিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে চিনি ও জানি এবং তাদেরকে খুব ভালোবাসী। কারন এই মানুষটি আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন। মানুষের বিপদে-আপদে তরিকুল ইসলাম কখনো দলমত বিচার করেননি। যখনই সুযোগ পেয়েছিলেন তখনই গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। তাদের সুখ-দুঃখের সাথী হয়ে তাদের সাথে মিশে গিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী মেধাবী ছাত্র হয়েও মানুষের মঙ্গলের জন্য রাজনীতিকে পেশা ও নেশা হিসেবে নিয়েছিলেন। এই আপনাদের ভোটে মরহুম তরিকুল ইসলাম এই আসন থেকে বার বার এমপি মন্ত্রী হয়েছেন। তরিকুল ইসলামের প্রতিক ছিলো ধানের শীষ। যশোরের সার্বিক উন্নয়নে তরিকুল ইসলামের অবদানকে কেউ এখনো অতিক্রম করতে পারেননি। তারই সুযোগ্য পুত্র আমাদের সকলের প্রিয়মুখ অনিন্দ্য ইসলাম অমিতও মাতা-পিতার মতো অত্যন্ত মেধাবী স্টুডেন্ট হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। বিবিএ এমবিএ করেছেন। সুযোগ ছিলো সরকারের উচ্চ পদস্থ আমলা হওয়ার। নাহলে বিদেশে বসে আরাম আয়েশে জীবন কাটানোর। কিন্তু তিনি তা না করে এই যশোরবাসীর সেবা করার জন্য পিতা ও মাতা অধ্যাপক নার্গিস বেগমের আদর্শকে বুকে ধারন করে রাজনীতিকে, মানুষের সেবা করাকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করে আপনাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অমিতের আর পরীক্ষা দেওয়ার কিছু নেই। বিগত ১৭ বছর অমিত তার রাজনৈতিক পরীক্ষায় বার বার উত্তীর্ণ হয়েছেন। আপনারা যারা গত ১৫ বছর ভোট কেন্দ্রে যেতে পারেননি, ভোট দিতে পারেননি- তাদের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে অমিত দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছেন। বিগত ৩৬ জুলাই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে নেপথ্যে থেকে সাহায্য সহযোগিতা করে আন্দোলনকে চূড়ান্ত রুপ দিয়েছিলেন। আজ আপনারা স্বাধীন ভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ফিরে পেয়েছেন। তাই এই অধিকার যিনি আপনাদের ফিরিয়ে দিলেন সেই অমিতকে ধানের শীষ প্রতিকে আপনারা দলমত নির্বিশেষে সকলে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করাবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
ভোট আসলে অনেকেই প্রার্থী হন। কিন্তু আপনারা তাদেরকে আগে কোনদিন দেখেননি। আপনারা সেসব প্রার্থীকে চেনেন নাা। তাই যাকে আপনারা দেখেননি, যাকে চেনেন না, যার পরিবারের সাথে আপনাদের কোন সম্পর্ক বা যোগাযোগ নেই- সেই রকম কাউকে আপনারা ভোট দিবেন না। কারোর মিথ্যা প্রতিশ্রুতিতে আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না। অমিত আমাদের সন্তান, যশোরের মানুষের কাছে একজন পরিচিত মানুষ; পরীক্ষিত মানুষ। তাকেই আমরা ভোট দিবো। আমাদের প্রতিনিধি হিসেবে অমিতকে ভোটে জয়যুক্ত করে মহান সংসদে পাঠাবো তার পিতার অসমাপ্ত উন্নয়নমুলক কর্মকান্ডকে আরো বেশি বেশি করার জন্য। তাই জাকের পার্টি, জাকের মঞ্জিলের কর্মী গ্রুপসহ এই ময়দানে উপস্থিত দলমত নির্বিশেষে সকলেই আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিনে সকাল সকাল ভোট সেন্টারে যাবেন এবং আমার আপনার আমাদের সকলের পরিচিতমুখ প্রিয় মানুষ অনিন্দ্য ইসলাম অমিতকে ধানের শীষ প্রতিকে আপনাদের মুল্যবান রায়টি দিয়ে যশোরের মানুষের সেবা করার সুযোগ করে দিবেন। সভা শেষে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের জন্য বিশেস মোনাজাত করা হয় এবং উপস্থিত কর্মীদের মধ্যে ও কোদালিয়া বাজারের দোকানদের মধ্যে ধানের শীষ প্রতিকের লিফলেট বিতরণ করা হয়।