নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় বেতন কমিশনের ৯ম পে-স্কেলের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়ন ও এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশের দাবিতে যশোরে পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উদ্যোগে কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত যশোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় প্রাঙ্গণে শান্তিপূর্ণভাবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, জাতীয় পে-স্কেল কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণি, ক্যাডার বা একক বিভাগের দাবি নয়; এটি দেশের প্রায় ২২ লক্ষ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ন্যায্য ও সাংবিধানিক অধিকার। তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যমান বেতন কাঠামো বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এর ফলে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং প্রশাসনিক দক্ষতা ও কর্মস্পৃহা কমে যাচ্ছে।
বক্তারা আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করা হয়েছে এবং কমিশনের সুপারিশ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন ও প্রয়োজনীয় গেজেট প্রকাশে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
যশোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মনে করেন, সময়োপযোগী ও বাস্তবভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে তা রাষ্ট্রীয় প্রশাসনকে আরও গতিশীল, দক্ষ ও কর্মচারীবান্ধব করে তুলবে।
উল্লেখ্য, পূর্বঘোষিত কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় ১, ২ ও ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে যশোর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মচারীরা দেশের অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন। দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর ও সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করা হলে ভবিষ্যতে আরও সুসংগঠিত ও বিস্তৃত কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হতে পারে বলে জানান তারা।
এ সময় আন্দোলনকারীরা দেশের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেশাজীবী সংগঠন, গণমাধ্যমকর্মী ও সচেতন নাগরিক সমাজের সার্বিক সহযোগিতা ও সংহতি কামনা করেন।