নিজস্ব প্রতিবেদক : যশোরে পাঠচর্চা ও জ্ঞানচর্চাকে এগিয়ে নিতে ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ সংগঠনের আয়োজনে সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো উচ্চতর অধ্যয়ন সভা। যশোর শামস উল হুদা স্টেডিয়াম মার্কেটে আয়োজিত এ সভায় অংশ নেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সাহিত্যপ্রিয় মানুষ, ব্যাংকার, গণমাধ্যমকর্মী ও সংস্কৃতিসেবীরা।
এদিন আলোচনার জন্য নির্ধারিত ছিল প্রখ্যাত লেখক আবুল মনসুর আহমেদ রচিত ‘বাংলাদেশের কালচার’ গ্রন্থ। বইটির ভাষাগত বৈশিষ্ট্য, ঐতিহাসিক পরিপ্রেক্ষিত, সাংস্কৃতিক ভিত্তি এবং পূর্ব-বাংলার সমাজ-মানস গঠনে এর গুরুত্ব নিয়ে মূল আলোচনা উপস্থাপন করেন কবি, গবেষক এবং দ্য ডেইলি স্টার-এর সাহিত্য সম্পাদক ইমরান মাহফুজ।
মূল আলোচনায় ইমরান মাহফুজ বলেন,
“আবুল মনসুর আহমেদের এই গ্রন্থ কেবল একটি বই নয়, এটি বাংলাদেশের সামগ্রিক সাংস্কৃতিক চেতনার এক গভীর পাঠ। তিনি দেখিয়েছেন—সংস্কৃতি কখনোই স্থির নয়; ভাষা, ভূগোল, ইতিহাস ও মানুষের জীবনধারার মিশ্রণে এটি ক্রমাগত বদলে যায়।”তিনি আরও বলেন,“বইটি পড়লে বুঝতে পারি, আমাদের সংস্কৃতি মূলত মানবিক, সমন্বয়ী ও বহুবর্ণ। গ্রামীণ জীবন, লোকসংস্কৃতি, ধর্মীয় বৈচিত্র্য, ভাষাগত বিবর্তন—সবই একসূত্রে গেঁথে তুলেছেন লেখক।”
এদিন ফুল দিয়ে অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে এবং মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। পাঠ-সংস্কৃতি নিয়ে তরুণদের আগ্রহ দেখে অতিথিরা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
সভাপতিত্ব করেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা শাজাহান কবির। তিনি বলেন,“পাঠচর্চা শুধু ব্যক্তিকে পরিবর্তন করে না, সমাজকেও আলোকিত করে। তাই প্রতি সপ্তাহে একটি বই পড়া আমাদের অভ্যাস ও আন্দোলন—দু’টিই।”
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—দৈনিক রানারের সাহিত্য সম্পাদক কবি মামুন আজাদ,খুলনা ইস্পাহানি লিমিটেডের সিনিয়র ডিভিশনাল ম্যানেজার নাজমুল হুদা,রূপালী ব্যাংক যশোর শাখার এজিএম শহিদুল ইসলাম,যশোর সরকারি কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক তাজমুল ইসলাম,প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সরকারি এমএম কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী লিমা খাতুন। তার সাবলীল ও সুশৃঙ্খল সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে প্রাণ সঞ্চার করে।
পাঠচর্চা বিস্তারে ‘সপ্তাহে একটি বই পড়ি’ সংগঠন নিয়মিত এ ধরনের অধ্যয়ন সভা করে আসছে। আয়োজকরা জানান, তরুণদের বইমুখী করতে ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত পরিসরে আলোচনা, পাঠ-উৎসব ও লেখক-আড্ডার আয়োজন করা হবে।যশোরের পাঠপ্রেমী মানুষের মিলনমেলায় পরিণত হওয়া এ সভা শেষ হয় কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন ও পরবর্তী পাঠসূচি ঘোষণার মধ্য দিয়ে।